‘‌যে কেউ দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে পারেন’‌, তাজপুর নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

সালটা ২০২২। আর ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আদানি গোষ্ঠীকে তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করার বরাত দিয়েছিল মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের সরকার। তার জন্য আদানি গোষ্ঠীকে ইচ্ছাপত্রও দিয়েছিল রাজ্য সরকার। তাজপুরে ২৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করার কথা ছিল আদানি গোষ্ঠীর। আর ২০২৫ সালের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে গত একবছরে বন্দর নির্মাণের কাজ এগোয়নি বলেই অভিযোগ। ২০২৩ সালের চিত্র বলছে এভাবে চললে ২০২৫ সালের মধ্যে গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে তোলা অসম্ভব। এখন নিউটাউনে বসেছে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী আজ ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন।

এদিকে তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের ক্ষেত্রে এখন নতুন করে দরপত্র তথা টেন্ডার জমা করার কথা বাণিজ্য সম্মেলন থেকে জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, মঙ্গলবার বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাজপুরে সমুদ্রবন্দর হবে। আপনারা তাতে অংশগ্রহণ করতে পারেন।’‌ তাহলে কি নতুন কেউ আসবে প্রকল্প গড়তে?‌ আদানি চ্যাপ্টার কি ক্লোজড?‌ তা হলে কি দূরত্ব বাড়ল মমতা– আদানির?‌ উঠছে প্রশ্ন। তাজপুরে বন্দর তৈরির কাজ আদানি গোষ্ঠীর হাতে থাকবে তো? এই প্রশ্নও উঠছে। আজ, মঙ্গলবার বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাজপুরে বন্দর তৈরির প্রকল্পে সকল শিল্পপতিকেই দরপত্র দেওয়ার আহ্বান জানালেন। তখন থেকেই চর্চা শুরু হয়েছে, তাহলে কি তাজপুরে আদানি গোষ্ঠীর বন্দর নির্মাণ অনিশ্চিত?

অন্যদিকে সূত্রের খবর, কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে একটি চিঠি আসে রাজ্যের কাছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বন্দর নির্মাণ করতে ‘বিতর্কিত’ যেন কিছু না করা হয়। তার পরই আজ বাণিজ্য সম্মেলের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আজকের এই সম্মেলনে আদানি গোষ্ঠীর কাউকে দেখা যায়নি। বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন বুধবারও চলবে। সেদিন আসবেন কিনা গৌতম আদানি বা অন্য কেউ সেটা এখনই হলফ করে বলা যাচ্ছে না। আবার তাজপুর বন্দর নির্মাণ যদি হাতছাড়া হয়ে থাকে তাহলে আর এসে কোনও লাভ নেই। আর সেটি যদি ঘটে তাহলে নিশ্চিত হওয়া যাবে মমতা–আদানি ‘দূরত্ব’ বাড়ল।

আরও পড়ুন:‌ ‘‌রাজভবনে নজরদারির নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে’‌, এবার বোমা ফাটালেন রাজ্যপাল

এছাড়া নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি গৌতম আদানির বিরুদ্ধে বারবার সরব হন রাহুল গান্ধী থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ‘ঘুষের’ বিনিময়ে আদানিদের বিরুদ্ধে সংসদে প্রশ্ন করেছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। যদিও তা এখনও প্রমাণ হয়নি। অভিযোগের স্তরেই রয়েছে। মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির থেকে ‘উপহার–ঘুষ’ নিয়ে সংসদে আদানিদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাজপুর বন্দর তৈরির জন্য অন্য শিল্পপতিদের কাছে দরপত্র চেয়ে বলেন, ‘‌তাজপুরের গভীর সমুদ্র বন্দরের জন্য যে কেউ দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে পারেন।’‌