পালাক্রমে ক্ষমতায় আসতে চায় পিপিপি ও পিএমএল-এন?

একটি ধারাবাহিক নির্বাচনি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। দীর্ঘ বিলম্ব শেষে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এবার অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে সরকার গঠন নিয়ে। একদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে কারাবন্দি ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) একক সরকার গঠনের চেষ্টায় রত। অন্যদিকে, জোট সরকার গঠন নিয়ে দফায় দফায় আলোচনায় বসছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এবং পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)। তবে ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী হবেন কে এ সমস্যার কোনও সূরাহা করতে পারছে না কোনও পক্ষ। নিজ নিজ দল থেকে প্রধানমন্ত্রী পদের দাবি জানাচ্ছে উভয় দল। তবে গুঞ্জন উঠেছে, এই সমস্যার সমাধানে পালাক্রমে ক্ষমতায় আসতে চাচ্ছে পিপিপি এবং পিএমএল-এন। সূত্রের বরাতে সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জিও নিউজ এই খবর জানিয়েছে।

পাওয়ার শেয়ারি ফর্মূলা বা ক্ষমতা ভাগাভাগি সূত্রের অধীনে ক্ষমতায় বসা নিয়ে আলোচনা করছে উভয় দল। এই সূত্রের আওতায় পাঁচ বছরের মেয়াদের অর্ধেক সময়ের জন্য পিপিপি-এ এবং বাকি অর্ধেক সময়ের জন্য পিএমএল-এন তাদের দল থেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন। এই সম্ভাবনা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে।

বৈঠকের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্রের মতে, ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর কেন্দ্র ও প্রদেশে জোট সরকার গঠনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রবিবার প্রথমবারের মতো আলোচনায় বসে পিপিপি ও পিএমএল-এন এর নেতারা। এসময় অর্ধেক মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ধারণাটি প্রথমবার আলোচনা করা হয়েছিল।

এর আগে, ২০১৩ সালে বেলুচিস্তানে পিএমএল-এন এবং ন্যাশনাল পার্টি (এনপি) মিলে প্রথমবারের মতো ক্ষমতা ভাগাভাগি ফর্মূলার মাধ্যমে সরকার গঠন করেছিল। তখন দুটি দলের দুই মুখ্যমন্ত্রী পাঁচ বছরের মেয়াদের অর্ধেক সময়ের জন্য পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

রবিবারের লাহোরের বিলাওয়াল হাউজে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষই সাধারণ নির্বাচনের পর দেশটিরতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়। বৈঠকে পিপিপি-এর সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল-ভুট্টো জারদারি এবং পিএমএল-এন এর পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ উপস্থিত ছিলেন।

পরে একটি যৌথ বিবৃতি বলা হয়, বৈঠকটি একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন জাতির স্বার্থ এবং মঙ্গলকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে উভয় পক্ষ।

রবিবারের ওই বৈঠকে উভয় দলের নেতৃবৃন্দই দেশটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং উন্নতির জন্য সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তখন পিএমএল-এন প্রতিনিধি দলে  আজম নাজির তারার, আয়াজ সাদিক, আহসান ইকবাল, রানা তানভীর, খাজা সাদ রফিক, মালিক আহমেদ খান, মরিয়ম আওরঙ্গজেব এবং শেজা ফাতিমা ছিলেন।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছিল, পাকিস্তানের সামগ্রিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা এবং বোর্ড জুড়ে স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি প্রচারের লক্ষ্যে সুপারিশ বিনিময় আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল।

পাকিস্তানকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থেকে বের করে সমৃদ্ধি ও স্থিতিস্থাপকতার দিকে পরিচালিত করতে কাজ করার নিশ্চয়তা দিয়েছে উভয় দলই।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ দুটি দলকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। দলগুলো তাদের হতাশ করবে না। উভয় দলের নেতারা জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণে তাদের অটল অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে জনগণের কথা শোনা এবং তাদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন।

বৈঠকের মূল আলোচনা অনুসারে, পিএমএল-এন আনুষ্ঠানিকভাবে পিপিপিকে জোট সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত সূত্ররা আরও জানিয়েছেন, পিএমএল-এন নেতারা পিপিপিকে স্বাধীন আইন প্রণেতা এবং এমকিউএম-পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছেন।

এসময় পিএমএল-এন নেতারা প্রধানমন্ত্রীর আকর্ষণীয় পদের দাবি জানালে পিপিপির সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারি বলেন, তাদের দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি (সিইসি) ইতিমধ্যেই বিলাওয়ালকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত করেছে।

সূত্র মতে, এর পরই দুই দলের নেতারা পালাক্রামে ক্ষমতায় বসার প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। পাঁচ বছরের মেয়াদের অর্ধেক সময়ের জন্য তাদের প্রত্যেক দলের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের সম্ভাবনাটি খতিয়ে দেখেন।

সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রীর পদ নিয়ে কোনও সূরাহা না হলেও প্রধান দলগুলো কেন্দ্র, পাঞ্জাব এবং বেলুচিস্তানে জোট সরকার গঠনে সম্মত হয়েছে। 

২০০৬ সালে উভয় দল গণতন্ত্রের যে সনদ স্বাক্ষর করেছিল তার আলোকে পাঁচ বছরের রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়।

সূত্র মতে, ‘আজকের সিইসির বৈঠকে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাবটি পেশ করবে পিপিপি।’