Youth beaten by police: চোর সন্দেহে থানায় নিয়ে গিয়ে মারধর, মৃত্যু যুবকের, পুলিশকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্যে চোর বা ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। তাতে মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজনের। সেই আবহে এবার চোর সন্দেহে থানায় তুলে গিয়ে এক যুবককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠল খোদ পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পুলিশের মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। মৃত যুবকের নাম আবু সিদ্দিক হালদার (২২)। ঘটনাটি ঘটেছে সুন্দরবন পুলিশ জেলার ঢোলাহাটে। এই ঘটনায় ঢোলাহাট থানার পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে থানার সামনে তুমুল বিক্ষোভ করেন মৃত যুবকের পরিবারের সদস্যরা। 

আরও পড়ুন: দোকানের সিসিটিভি দেখিয়ে দিল অভিযুক্তদের মুখ, ভাঙড়ে পিটিয়ে মারার ঘটনায় ধৃত ২

কী ঘটেছিল?

পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আবুসিদ্দিক হালদার ঢোলাহাটের ঘাটবকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ৩০ জুন। ওইদিন আবু সিদ্দিক হালদারের কাকা মহসিন হালদারের বাড়ি থেকে সোনার গয়না চুরি হয়ে যায়। কিন্তু, অভিযোগ, এরপরের দিন ঢোলাহাট থানার পুলিশ চোর ধরার পরিবর্তে মহসিন এবং তাঁর ভাইপো আবু সিদ্দিককে থানায় তুলে যায়। এরপর পুলিশ জোর করে ভাইপোর নামে মহসিনকে দিয়ে চুরির অভিযোগ লিখিয়ে নেয়। তখন মহসিনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সিদ্দিককে।গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরেই তার ওপর চলে পুলিশি অত্যাচার।

অভিযোগ, আবু সিদ্দিককে থানার মধ্যে দফায় দফায় মারধর করা হয় বলে। তারপর ৪ জুলাই কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয় আবু সিদ্দিককে। সেই মামলায় পুলিশ পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ দিতে না পারায় সিদ্দিককে জামিন দেয় আদালত। তবে জামিন পেলেও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়বে আবু সিদ্দিক। তখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিদ্দিককে প্রথমে মথুরাপুর হাসপাতাল, পরে ডায়মন্ড হারবার ও শেষে চিত্তরঞ্জন হাসপাতলে ভর্তি করা হয়। কিন্তু, অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল পার্কসার্কাসের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয় সিদ্দিককে। সেখানেই গতকাল রাত দশটা নাগাদ যুবকের মৃত্যু হয়। এরপরই থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান যুবকের পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, অবিলম্বে মারধরে যুক্ত পুলিশ কর্মীদের শাস্তি দিতে হবে। যদিও সুন্দরবনের পুলিশ জেলার সুপার কোটেশ্বর রাও মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আদালতে পেশ করার সময় যুবকের শারীরিক কোনও সমস্যা ছিল না। তবে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ।