উপনির্বাচনেও চলল গুলি, বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ‘হামলা’, পায়রাডাঙা নিয়ে রিপোর্ট তলব কমিশনের

রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভার পায়রাডাঙ্গা পঞ্চায়েতের ২ নম্বর প্রীতিনগর এলাকায় মঙ্গলবার মাঝরাতে বিজেপির পঞ্চায়েতের সদস্যের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পঞ্চায়েত সদস্য অমল বিশ্বাস ও গোলক মণ্ডলের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায় ৩০ জন দুষ্কৃতী। পরপর দুটি বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয়। হামলায় আহত হয় বাড়ির এক নাবালিকা সদস্য। আজ, বুধবার সকাল থেকেই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিজেপির পোলিং এজেন্টের বাড়ি ভাঙচুর ও গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে রঞ্জিত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি ১৫৭ নম্বর বুথের পোলিং এজেন্ট। অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে তাঁরা যখন ঘুমোচ্ছিলেন। তখন ঘুম থেকে ডেকে তোলা হয়। বারান্দার কাচ ভাঙচুর করা হয়। চলে দু’‌রাউন্ড গুলি। ভয়ে সিঁটিয়ে আছে গোটা পরিবার। আবার উপনির্বাচনের আগের রাতে রানাঘাট দক্ষিণের পায়রাডাঙায় বিজেপির পোলিং এজেন্ট শ্রাবন্তী দে’‌র বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, গভীর রাতে ৩০ জন দুষ্কৃতী চড়াও হয়। সিসিটিভি ভেঙে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হন তিনি। বাংলার চার কেন্দ্রের উপনির্বাচনেও অশান্তির ছবি দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার রাতভর রানাঘাটের পায়রাডাঙায় চলে তাণ্ডব।

আরও পড়ুন:‌ সরকারি বেশকিছু রুটের বাস যাচ্ছে বেসরকারির হাতে, নতুন পথে আয় বাড়বে নিগমের

অন্যদিকে এই ঘটনায় রিপোর্ট তলব করল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। এদিন ওই দুষ্কৃতী দল মুখে কাপড় বেঁধে এসে হামলা চালায়। রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের পায়রাডাঙ্গার গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি সদস্য গৌতম বিশ্বাসকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রানাঘাট হাসপাতালে ভর্তি হন গৌতম। তাঁর বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ ভেঙে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা নিয়ে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।

এছাড়া এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রানাঘাট নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে এটিআর তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। দু’‌ঘন্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং পুলিশ সুপারের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। সুতরাং শান্ত উপনির্বাচন এখন অশান্ত হয়ে উঠেছে। আর এটাই এখন সর্বত্র চর্চিত হচ্ছে। কেউ যাতে ভোট দিতে না যায় তাই আগের দিন রাতে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির। আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছে। এই ঘটনায় ২৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।