‘‌পিছিয়ে থাকার দায় নেব না আমি’‌, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব জিইয়ে রেখেই সপাট জবাব মনোরঞ্জনের

লোকসভা নির্বাচনে হুগলি আসনটি তৃণমূল কংগ্রেস জিতলেও এখানের অনেক জায়গা আছে যেখানে ভোট কমেছে। তার উপর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে অনেকটা ক্ষতি হয়েছে হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে। আর তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল বিধায়ক অসিত মজুমদারকে। একদিন আগেই সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এসেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে দলের কর্মী–সমর্থককে সতর্ক করে দিয়ে গিয়েছেন। এই আবহে এবার মুখ খুললেন বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। যা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই বিধানসভা কেন্দ্রে কেন তৃণমূল কংগ্রেস পিছিয়ে?‌ সপাটে জবাব দিয়েছেন এই লেখক বিধায়ক।

আজ, বুধবার রাজ্যের চার বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন শুরু হয়েছে। যদিও তার মধ্যে হুগলির জেলার কোনও বিধানসভা আসন নেই। তবু মনোরঞ্জন ব্যাপারীর মন্তব্য বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছে ঘাসফুল শিবিরকে। বেশ কিছুদিন ধরেই দলের থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। সেখানে আবার তাঁর বক্তব্যে প্রকাশ পেল বিস্তর অভিমান। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যে আছে তা তাঁর বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট। আর তাই লোকসভা নির্বাচনে বলাগড়ের ফলাফলের দায় কোনওভাবেই তিনি নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন। এটাই অস্বস্তির কারণ।

আরও পড়ুন:‌ শহিদ অংশুমান সিংয়ের বাড়িতে গেলেন রাহুল গান্ধী, শুনলেন অগ্নিবীর প্রকল্প প্রত্যাহারের দাবি

এই হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসছে। লোকসভা নির্বাচনের মুখে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছিল। একদিকে বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর নিষ্ক্রিয় থাকা অপরদিকে জেলার অন্যান্য নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে তাল না মিলিয়ে চলা সমস্যা তৈরি করেছিল। দলের অন্দরে একে অন্যের বিরুদ্ধে রীতিমতো বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে খানিকটা নিষ্ক্রিয় ছিলেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী। এই লোকসভা কেন্দ্রে জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। হুগলির সাংসদ হয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তথ্য বলছে বলাগড় বিধানসভা কেন্দ্রে পিছিয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু এই ফলের দায় নিতে নারাজ বলাগড়ের বিধায়ক।

ঠিক কী বলেছেন বিধায়ক?‌ এই পিছিয়ে থাকা নিয়ে জেলা নেতৃত্ব মনোরঞ্জন ব্যাপারীর কার্যকলাপকেই কাঠগড়ায তুলেছেন। দায়ও তাঁর ঘাড়েই চাপিয়েছেন। যেহেতু তিনি বিধায়ক। সেখানে বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী স্পষ্ট বলেন, ‘‌মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বলেছিলেন আমি সক্রিয় হয়েছি। তার ফল সকলে দেখেছেন। আর লোকসভা নির্বাচনের মুখে উনিই সরে যেতে বলেছিলেন। তাই পিছিয়ে থাকার দায় নেব না আমি। কোনওদিন যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার সক্রিয় হতে বলেন, তখন হবো।’‌ অর্থাৎ জেলা নেতৃত্ব তাঁর ঘাড়ে দায় চাপাতে চাইলেও তিনি সেটা ঝেড়ে ফেলে দিলেন। তবে রয়ে গেল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কাঁটা।