মুখ্যমন্ত্রীর কথা মেনে নিল রেল, একাধিক সমস্যায় বাড়িয়ে দেবে সাহায্যের হাত, কাটল জট

নবান্ন থেকে রেলের বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছেড়ে ছিলেন বাংলার মু্খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেলের অসহযোগিতার জন্যই বর্ষার জমা জল সরানো যাচ্ছে না। আর তা থেকে ডেঙ্গি হতে পারে বাংলার মানুষের বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। রেলের জন্যই রাস্তাঘাট অপরিষ্কার হয়ে থাকছে। তারা কাজ করছে না। আর রেলকে সহযোগিতা করার জন্য মুখ্যসচিব বিপি গোপালিকাকে বৈঠক করতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। রেল কাজ না করলে পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারিও দেন। এবার রেল রাজ‌্যকে সবরকমভাবে সাহায‌্য করতে প্রস্তুত বলে জানিয়ে দিল। নিকাশি নালা থেকে ঝিল সংস্কার—সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে রেল বলে রাজ্যের মুখ‌্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়ে দিলেন রেল কর্তারা। হাওড়ার দু’টি নিকাশি খাল রানিঝিল ও সাঁতরাগাছি ঝিল সংস্কার হয়নি। রাজ্যের অভিযোগ, রেলের সহযোগিতার অভাবেই সংস্কারের কাজ এগোয়নি। তাই অল্প বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে হাওড়া। এবার সেই জট কাটল।

এই জট কেটে গিয়ে কাজ শুরু হলে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হবে। পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব জায়গায় জল জমে আছে, নিকাশি সংস্কার হয়নি, পলি জমে আছে, সেখানে সংস্কার করতে রাজ‌্যকে সবরকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। দক্ষিণ–পূর্ব রেলের সাঁতরাগাছি–শালিমার টার্মিনালের লাইন সম্প্রসারণের জন্য রেলের নয়ানজুলি মাটি ফেলে বোজানো হয়েছে বলে অভিযোগ। পুরসভার অভিযোগ, এই কাজ করার ফলে নয়ানজুলির প্রায় এক–চতুর্থাংশ বুজে গিয়েছে। আর সাঁতরাগাছি সেতুর নীচের ঝিল থেকে জল বেরনোর জন্য যে দু’টি পাইপলাইন ছিল তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে নিকাশির নোংরা জল উপচে পড়ে। এবার সেখানেও জোরদার কাজ শুরু হবে।

আরও পড়ুন:‌ এক কোটি টাকা ব্যয়ে শিলিগুড়িতে তৈরি হচ্ছে প্রথম ফুড লেন, জোরকদমে চলছে কাজ

মুখ‌্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নের বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দেন। বৈঠক চলাকালীনই মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় পুরমন্ত্রীর কাছে গোটা বিষয়টি জানতে চান। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, একটি পরিকল্পনা করে কেন্দ্রীয় সরকারকে পাঠানো হয়েছিল। তিন বছর ধরে সেটি পড়ে রয়েছে। আর রেল কর্তৃপক্ষও তাদের এলাকায় পলি তোলার কাজ করছে না। সুতরাং বিস্তর সমস্যা হচ্ছে সাধারণ মানুষের। ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেন, রেলের সঙ্গে বৈঠক করে এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান করতে হবে। নবান্নে এদিনের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে বলে খবর।

রেল সূত্রে খবর, যে কাজগুলি রেলের তরফে করা দরকার তা নিশ্চয়ই করা হবে। আর রাজ্য সরকারকে তাঁরা সাহায‌্য করবে। প্রত্যেক বছর বেশি বৃষ্টি হলেই হাওড়ার রেল ইয়ার্ডে জল জমে। তার জেরে সাধারণ মানুষের সমস্যা হয়। ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। আবার শহরে চলা মেট্রো প্রকল্পের জেরে সিমেন্ট–বালি জমে শহরের নিকাশি নালা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাতে শহরেও জল জমছে। বিপাকে পড়তে হচ্ছে মানুষজনকে। এই গোটা বিষয়টি নিয়ে ডিআরএম হাওড়া সঞ্জীব কুমার বলেন, ‘আমরা রাজ‌্যকে জানিয়ে দিয়েছি রানিঝিল সংস্কারের কাজ আমরা করতে পারি। আমাদের কোনও আপত্তি নেই।’