চলন্ত ট্রেন থেকে হাত ফসকে পড়ে যান যাত্রী, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনলেন কনস্টেবল

মানবিক আরপিএফের কনস্টেবল। আর তার জেরেই প্রাণে বাঁচলেন এক ব্যক্তি। চলন্ত ট্রেনে উঠতে যাচ্ছিলেন তিনি। আর তখনই হাত ফসকে পড়ে যান ওই যাত্রী। তাঁর নিজেরও মনে হয়েছিল জীবনটা শেষ। কারণ প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের পাদানির মাঝে থাকা ফাঁকা অংশে পা ঢুকে গিয়েছিল। সুতরাং পা বাদ পর্যন্ত হতে পারত। এই আবহে ছুটে এসে ওই ব্যক্তিকে টেনে তুলে তাঁর প্রাণ বাঁচালেন এক আরপিএফের কনস্টেবল। আর তাতেই সম্বিত ফিরে পেলেন ওই যাত্রী। বুঝলেন এযাত্রায় বেঁচে গিয়েছেন। প্রাণ আছে ধড়ে।

গতকাল বুধবার দুপুর ২টো নাগাদ আসানসোল স্টেশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এমন ঘটনা ঘটেছে। মর্মান্তিক একটা বিপদ নেমে এসেছিল ওই যাত্রীর জীবনে। আর তখনই তৎপর হয়ে ওঠেন সুনীল দাস নামে আরপিএফের কনস্টেবল। তাতেই প্রাণ বেঁচে যায় ওই যাত্রীর। সামান্য আঘাত ছাড়া আর কিছুই লাগেনি ওই যাত্রীর। আর আরপিএফ কনস্টেবলের এই তৎপরতার প্রশংসা করেছেন আসানসোল ডিভিশনের আরপিএফের সিনিয়র সিকিউরিটি কমিশনার রাহুল রাজ। মানুষের জীবন বাঁচিয়ে এখন সমাজের চোখে হিরো সুনীল। আর তার জন্য মিলল প্রাপ্তিও।

আরও পড়ুন:‌ ‘‌উপনির্বাচনে তৃণমূলকে ড্যামেজ করতেই পুরনো ভিডিয়ো ছড়ানো হয়’‌, আড়িয়াদহ কাণ্ডে তোপ মমতার

তবে এটা ওই যাত্রীর কপালে ছিল বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ আসানসোল স্টেশনের ১ থেকে ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে মালগাড়ির সিল পর্যবেক্ষণ করছিলেন ওয়েস্ট পোস্টের আরপিএফ কনস্টেবল সুনীল দাস। ঠিক তখনই ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে গয়াগামী মেমু প্যাসেঞ্জার চলন্ত ট্রেনে উঠতে যান মাঝবয়সী এক যাত্রী। কিন্তু সেটা ধরতে তিনি ব্যর্থ হন। আর ট্রেন ছেড়ে দেয়। ওই ব্যক্তি নিজের ব্যাগ কামরায় তুলে তারপর উঠতে যান। তাই হাত ফসকে যায় তাঁর। এই দেখতে পেয়েই দৌড়ে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচান আরপিএফ কনস্টেবল সুনীল। আর সুনীল গার্ডের দিকে ইশারা করে ট্রেন থামাতে বলেন। সেটা গার্ড দেখতে পেয়ে ট্রেন থামান। আর তারপর দুর্ঘটনার মুখে পড়া যাত্রীকে ওই ট্রেনেই তুলে দেন সুনীল।

ওই ব্যক্তি ট্রেনে উঠে আরপিএফ কনস্টেবলকে করজোড়ে নমস্কার জানান। আর চিৎকার করে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। এটাই ছিল বুধবার বারবেলার সুনীলের প্রাপ্তি। এই ঘটনার পর সুনীল বলেন, ‘ট্রেন ছেড়ে দেওয়ায় ওই যাত্রীর নাম জানা হয়নি। শুধু তিনি গয়া যাচ্ছেন বলে জানান। আর জানালা দিয়ে আমাকে ধন্যবাদ জানান।’ তবে কোনও যাত্রীকে মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচানোর আনন্দই আলাদা বলে মনে করেন সুনীল। সুনীল দাস জানান, ১০ বছর আগে চক্রধরপুর ডিভিশনে কর্মরত অবস্থায় টাটা–চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জার ট্রেন থেকে তিনজন অপহৃত বালককে পাচারের হাত থেকে রক্ষা করেন তিনি।