Jaishankar on Fuel Price: বিশ্ব তেলের বাজারে মূল্যস্ফীতি ঠেকিয়েছে ভারত, মিষ্টি ভাষায় কঠিন অঙ্ক বোঝালেন জয়শংকর

সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের বক্তব্যের একাধিক ক্লিপ ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। নিজের সোজাসাপটা জবাবের জন্যে রীতিমতো ‘কাল্ট হিরো’তে পরিণত হচ্ছেন তিনি। এরই মাঝে এবার বিশ্ব বাজারে তেলের দাম নিয়ে আরও এক বিস্ফোরক জবাব দিলেন জয়শংকর। সাংবাদিক লায়নেল বারবারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এস জয়শংকর বলেন, ভারতের কারণেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। শুধু তাই নয়, তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘আমি ধন্যবাদ পাওয়ার অপেক্ষায় বসে আছি।’ (আরও পড়ুন: ‘তদন্তের সম্ভাবনা ওড়াচ্ছি না…’, নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে এবার কোন সুর জয়শংকরের গলায়)

উল্লেখ্য, এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আমেরিকা। এরপর থেকেই আমেরিকা সহ পশ্চিমী দেশগুলি ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল যাতে তারা রাশিয়া থেকে তেল না কেনে। তবে সেই চাপের সামনে মাথা নত না করে ভারত রাশিয়ার তেল কেনার হার বাড়িয়ে দেয় অনেকটাই। অনেক সস্তায় রাশিয়া থেকে অশোধিত জ্বালানি তেল ভারত কিনতে থাকে বিগত বেশ কয়েক মাস ধরে। সেই সময় জয়শংকরকে নানান প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল আন্তর্জাতিক মঞ্চে। এমই একটি সভায় জয়ংশকরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ভারত কি ইউক্রেন যুদ্ধের জন্যে রাশিয়াকে অর্থের জোগান দিচ্ছে এভাবে তেল কিনে। জয়শংকর সপাটে জবাব দিয়েছিলেন, ইউরোপ এক সন্ধ্যায় রাশিয়া থেকে যত না জ্বালানি কেনে তার থেকে কম জ্বালানি এক মাসে কেনে দিল্লি। এরপর রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে অনড় থেকেছে ভারত। আর এই আবহেই এবার সাংবাদিক লায়নেল বারবারের কাছে মুখ খোলেন জয়শংরক।

ভারতের বিদেশমন্ত্রীর কথায়, ‘জ্বালানি তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতের নীতি আসলে বিশ্ব তেলের বাজারকে শান্ত রখেছে। আর এভাবেই ভারত বিশ্ব মূল্যস্ফীতি ঠেকিয়েছে। আমি তাই এখনও আমার ধন্যবাদের অপেক্ষায় বসে আছি।’ জয়শংররের যুক্তি, যদি রাশিয়ার থেকে তেল না কিনে সৌদি বা ওপেক দেশগুলি থেকেই ভারত তেল কিনত, তাহলে চাহিদার কারণে জ্বালানি তেলের দাম আকাশ ছুঁয়ে ফেলত। এদিকে চাহিদা মেটাতে ইউরোপের দেশগুলি ভারতের থেকে বেশি দাম দিত। তাতে বিশ্ব অর্থনীতি প্রভাবিত হত। এলএনজি-র উদাহরণ তুলে জয়শংকর বলেন, ‘এলএনজি বাজারে আমরা দেখেছি এশিয়ার ছোট ছোট দেশগুলিকে পাত্তাই দেয়নি সংস্থাগুলি। তারা এশিয়ার বদলে ইউরোপের দেশগুলিকে জ্বালানি বিক্রি করেছে। শুধুমাত্র ভারত কিছুটা হলেও সম্মান পেয়েছে এই সংস্থাগুলির কাছে।’ জয়শংকরের বক্তব্য, তেলের ক্ষেত্রেও এমনটাই হত। তাই ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় বাজারে সামঞ্জস্য বজয় ছিল সব দিক থেকেই। জয়শংকর আরও বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলিকে খোঁচা দিয়ে জয়শংকর বলেন, ‘মানুষ নীতির কথা বলে…কিন্তু তারা স্বার্থের বিচারে চলে।’