মেয়রের সই জাল করে লক্ষাধিক টাকা সাফ করল প্রতারক, প্রতারণার পর্দাফাঁস পুলিশের

এবার সরাসরি মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই জাল করার অভিযোগ উঠল। এমনকী ওই সই জাল করে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আবার তার জেরে লক্ষাধিক টাকা প্রতারণা করল এক প্রতারক। এই ঘটনায় খাস কলকাতায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। এই সই জাল করে জালিয়াতি ও প্রতারণার পর্দা ফাঁস করল কলকাতা পুলিশ। আলিপুর জেল মিউজিয়ামে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার টোপ দেওয়া হয়। আর মেয়রের সই জাল করে ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়েও নিয়েছিল অভিযুক্ত। আলিপুর থানা তদন্তে নেমে ধরে ফেলল সেই চালাক প্রতারককে। পেশায় ভারতীয় জাদুঘরের গ্রুপ–ডি কর্মী ওই প্রতারক। তার নাম প্রভাকর নায়েক।

বিষয়টি ঠিক কী ঘটেছে?‌ লালবাজার সূত্রে খবর, আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে এখন চালু হয়েছে মিউজিয়াম। এখানে ছুটির দিনে মানুষ ভিড় জমান স্বাধীনতার ইতিহাস থেকে শুরু করে জেলের অতীত জানতে। এখানে আছে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড দিয়ে তৈরি শহিদ বন্দিদের উপর অত্যাচারের কাহিনী। সেখানে চাকরির টোপ দিয়েছিল বন্দর এলাকার বাসিন্দা এক বেকার যুবককে। তাঁর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরিবর্তে আলিপুর মিউজিয়ামে চাকরি মিলবে বলে দাবি করেছিল প্রভাকর নায়েক। এই টোপে পা দিয়ে তিন লাখ টাকা দেন প্রতারিত যুবক। পাল্টা তাঁকে একটি নিয়োগপত্র দেয় অভিযুক্ত প্রভাকর নায়েক। সেই নিয়োগপত্র হাতে নিয়ে কাজে যোগ দিতে গিয়েই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় যুবকের। কারণ তখন তিনি জানতে পারেন, মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই জাল করে নিয়োগপত্র তৈরি করা হয়েছে।

তারপর ঠিক কী ঘটল?‌ ওই যুবক এই ঘটনার সম্মুখীণ হয়ে হতাশ হন। তিনি কী করবেন সেটা বুঝতে পারছিলেন না। তখন পুলিশই তাঁকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। আর গোটা ঘটনাই নিয়ে আসা হয় মেয়র তথা পুরমন্ত্রী ববি হাকিমের নজরে। তা দেখে চমকে ওঠেন মেয়র। একেবারে হুবহু জাল করা হয়েছে তাঁর সই। তখন মন্ত্রীর নির্দেশে অভিযোগ দায়ের করা হয় আলিপুর থানায়। পুলিশ সূত্রে খবর, মন্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রতারণা, জালিয়াতি, জাল নথিকে আসল বলে চালানো, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করে আলিপুর থানার পুলিশ। আর বৃহস্পতিবার বেশি রাতে ভারতীয় জাদুঘরের কাছ থেকে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত প্রভাকর নায়েককে।

আরও পড়ুন:‌ ‘‌ব্যর্থ সভার পর বিজেপি গণসংগঠন সিবিআইকে নামিয়েছে’‌, জাফিকুল নিয়ে স্পষ্ট বার্তা কুণালের

ঠিক কী বলছেন মেয়র? এই ঘটনা নিয়ে রীতিমতো চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। আর বিষয়টি নিয়ে মেয়র‌ ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘আলিপুর জেল মিউজিয়ামের পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রথম আমি জানতে পারি। প্রতারিত হওয়া যুবক আলিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। আগেও কলকাতা পুরসভায় চাকরির টোপ দিয়ে বেকার যুবকদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা তোলা হয়েছে। সেখানে আমার সই ও সিল জাল করা হয়েছিল। তার তদন্ত করছে নিউ মার্কেট থানা।’ গ্রেফতার হওয়া ওই জাদুঘর কর্মীকে শুক্রবার দুপুরে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। আদালত তাকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এই চক্রের শিকড় খুঁজতে ধৃতকে জেরা করে জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।