‘‌যোগ্য প্রার্থীদের কথা ভাবা হল না’‌, অনামিকা রায়ও এবার চাকরিহারা হয়ে গেলেন

২০১৬ সালের এসএসসির সমস্ত নিয়োগ আজ, সোমবার বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রায় ২৪ হাজার চাকরিরতদের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। আজ এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ৩৮১ পাতার রায়দান করে কলকাতা হাইকোর্ট। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। আজ কলকাতা হাইকের্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আবার নতুন করে স্বচ্ছভাবে নিয়োগ করতে হবে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে। এই আবহে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের পর সেই অনামিকা রায়ের চাকরিও বাতিল হল। আগে পরেশচন্দ্র অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরি পেয়েছিলেন ববিতা সরকার। তবে ববিতার চাকরি স্থায়ী হয়নি। ববিতার চাকরি পান অনামিকা রায়।

এবার সেই অনামিকা রায়ও এবার চাকরি হারালেন। কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, যাঁরা অবৈধভাবে মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেল থেকে চাকরি পেয়েছেন তাঁদের পাবলিক মানি থেকে বেতন দেওয়া হয়েছে। সুতরাং অবৈধভাবে ওই চাকরি প্রাপকদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বেতন ফেরত দিতে হবে। সুদ–সহ সেই বেতন ফেরত দিতে হবে সবাইকে। এমনকী বছরে ১২ শতাংশ সুদের হারে টাকা ফেরত দিতে হবে। আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে এই বেতন ফেরত দিতে নির্দেশ কার্যকর করবেন ডিআইরা। কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়ের পর অনামিকা রায় বলেন, ‘এই রায় শুনে আমি ভীষণ হতাশ। অযোগ্যদের জন্য এভাবে আবার পরীক্ষা দিতে হবে সেটা ভেবে হতাশ লাগছে। অনেক আইনি লড়াইয়ের পর এই চাকরি পেয়েছিলাম।’

আরও পড়ুন:‌ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি, স্ত্রী ও শাহের মোট অঙ্ক কত কোটির?‌

এদিকে কলকাতা হাইকোর্টের দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বার রশিদির বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ এসএসসি মামলার রায়ে মোট ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল করেছে। এটার অর্থ হল, ২০১৬ সালে যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের সকলের নিয়োগ বাতিল হল। এই বিষয়ে শিলিগুড়ির মেয়ে অনামিকা রায় বলেন, ‘‌যোগ্য প্রার্থীদের কথা ভাবা হল না। এই রায় কাম্য নয়। এই রায় মেনে নিতে পারছি না। শুধু অযোগ্যদের বের করে দিতে পারত। কিন্তু সেটা না করে গোটা প্যানেল বাতিল করে দেওয়ার কোনও অর্থ হয় না।’‌ এসএসসির নিয়োগের ওএমআর শিট যা এখনও আপলোড করা হয়নি তা দ্রুত আপলোড করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এতেও চাপ বাড়ল।

অন্যদিকে উত্তরপত্র যাতে জনগণ দেখতে পান তার ব্যবস্থাও করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট সূত্রে খবর, এই নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত চালিয়ে যাবে সিবিআই। এমনকী প্রয়োজন পড়লে কাউকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে অফিসাররা। যাঁরা অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির মধ্যে যুক্ত ছিল তাঁদেরকে অবিলম্বে খুঁজে বের করতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অঙ্কিতার বিরুদ্ধে মামলা করে সেই চাকরি পান ববিতা। তাঁর নিয়োগের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন অনামিকা। পরে ববিতার চাকরি এবং অঙ্কিতার থেকে ১৪ লাখ টাকাও অনামিকা পেয়েছিলেন। আজ সেই চাকরিও খোয়ালেন অনামিকা। তাই অনামিকার কথায়, ‘‌ব্যাপক দুর্নীতির জেরে এটা হল। এত কিছুর পর যে শেষে এই রায় আসবে সেটা ভাবিনি।’‌